রাজধানীতে প্রতারক চক্রের সদস্যরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নতুন নতুন কৌশলে সাধারণ মানুষকে প্রতারণায় ফেলে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। এবার প্রতারক চক্রের সদস্যরা ই-কমার্স কোম্পানি খুলে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এসব প্রতারক নগরীতে ঘন ঘন অফিস বদল করে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। এমনি একজন প্রতারক চক্রের সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দারা। তাকে যেকোনো সময় প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার করবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এই প্রতারকের নাম মো. সেলিম শেখ। তিনি নুরতাজ বাংলাদেশ লিমিটেডের মালিক। তিনি একের পর এক অফিস ভাড়া না দিয়ে নিরীহ মানুষের টাকা হাতিয়ে নিয়ে ই-কমার্স কোম্পানির চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ।
গত কয়েক বছর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় অফিস নিয়ে ই-কমার্স বিজনেসের নামে নুরতাজ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম শেখ ও আলিম শেখের অভিনব প্রতারণায় চমকে উঠেছে গোয়েন্দরাও। তারা নিজেকে প্রায় দশটা কোম্পানির মালিক দাবি করে বিভিন্ন চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে রাজধানীর নামিদামি জায়গায় অফিস নিয়ে বাড়িওয়ালা ও বিনিয়োগকারীদের থেকে টাকা পয়সা নিয়ে বিভিন্ন প্রোডাক্ট এবং পণ্যের অধিক লাভের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে স্থানীয় থানায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দায়ের করে।
ভুক্তভোগী বাড়িওয়ালা ইসমাইল হেসেন জানান, সেলিম তাকে ভাড়ার আবেদন দিয়ে কমপ্লেক্সের অফিসটি ভাড়া নিয়ে প্রায় এক বছরের মতো টালবাহানা করে তার এডভান্স এবং ভাড়া কোনটাই দেয়নি। ইসমাইল হোসেন সংক্ষুব্ধ হয়ে উকিল নোটিশ প্রদান করেন। যেন তার অফিসটি ছেড়ে দেয় এবং ই-কমার্স কোম্পানি নূরতাজ বাংলাদেশ লিমিটেড যেন এই ভবন থেকে তার নিজস্ব অফিস সরিয়ে নেয়।
এ বিষয়ে ই কমার্স কোম্পানি নূরতাজের মালিকের সাথে যোগাযোগ করলে সে বাড়িওয়ালার সাথে তার ভাড়া প্রাপ্যের বিষয় স্বীকার করে এবং বলে সে এখন অর্থনৈতিক ঝামেলায় আছে।
অন্যদিকে একজন ব্যাংকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাগজপত্র দেখিয়ে বলেন যে সে প্রায় ৮ লাখ টাকা তার থেকে প্রতি মাসে পণ্যে লাভ দিবে বলে নিয়েছে কিন্তু এখন আর নূরতাজের মালিককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এজন্য কলা বাগান থানায় তিনি একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।
নুরতাজের অফিসের এক পিয়ন স্বীকার করে যে, বস আমাদের টাকা না দিয়ে ছুটি দিয়ে অফিসের অন্য স্টাফদেরকে দিয়ে অফিসের মালামাল বের করার জন্য একটি চোতা লিখে দেয়। যা ভবনের সিকিউরিটিদেরকে দেখিয়ে যেন আমরা রাতে মাল নিয়ে যাই। কারণ এই অফিসে মালামাল রাখা যাচ্ছে না কারণ গ্রাহকদের পাওনার কারণে অফিস করাই মুশকিল হচ্ছে।
এদিকে কলাবাগান থানা যোগাযোগ করলে ডিউটি অফিসার জানায় নুরতাজ বাংলাদেশ লি. নামক ই-কমার্স নামক কোম্পানির বিরুদ্ধে বাড়িওয়ালাসহ অনেক বিনিয়োগকারী গ্রাহক অভিযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে পুলিশ ও গোয়েন্দরা তদন্ত করছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

ই-কমার্স
প্রতারক সেলিম হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা
- আপলোড সময় : ০৫-১২-২০২৪ ১২:২৪:৪৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৫-১২-২০২৪ ১২:২৪:৪৭ পূর্বাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ